CEO Rafia Sultana — নারায়ণগঞ্জের প্রশিক্ষক থেকে আমাদের প্রধান নির্বাহী
CEO Rafia Sultana বাংলাদেশি সদস্যদের জন্য চালু এই সাইটের শীর্ষ নির্বাহী। একসময় তিনি মোবাইল আর্থিক সেবার এজেন্টদের প্রশিক্ষক ছিলেন। এই লেখায় MCW আমরা রাফিয়া সুলতানাকে সংক্ষেপে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি।
সব কাজে তাঁর লক্ষ্য একটি। নতুন মানুষ যেন ভয় না পেয়ে, ভুল না করে, নিরাপদে প্রথম ধাপটা পার হতে পারে। এই লেখায় তাঁর শিকড়, কাজের শুরু, অর্জন আর সামনের পরিকল্পনার কথা থাকছে।

CEO Rafia Sultana সম্পর্কে কিছু তথ্য
তাঁর পুরো নাম রাফিয়া সুলতানা। সাইটের সর্বোচ্চ দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। অ্যাকাউন্ট খোলা, যাচাই, পেমেন্ট গাইড আর সদস্য সহায়তার নীতি শেষ পর্যন্ত তাঁর অনুমোদনেই চূড়ান্ত হয়।
মিটিংয়ে তাঁকে বলার চেয়ে শুনতেই বেশি দেখা যায়। কোনো সহকর্মী সমস্যা নিয়ে এলে আগে একটা কাগজ টেনে নেন। তারপর ধাপগুলো এক, দুই, তিন করে লিখে ফেলেন।
শীতলক্ষ্যার পাড়ের শহর
রাফিয়া সুলতানা বড় হয়েছেন নারায়ণগঞ্জে, শীতলক্ষ্যা নদীর কাছের এক পুরোনো মহল্লায়। চারপাশে ছিল হোসিয়ারি কারখানা, লঞ্চঘাট আর ব্যস্ত বাজার। ছোটবেলা থেকেই তিনি দোকানদারদের হিসাবের খাতা দেখে অভ্যস্ত।
তাঁর বাবার একটা ছোট মুদি দোকান ছিল। স্কুল ছুটির পর তিনি সেখানে বসতেন, খুচরা গুনতেন, ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলতেন। মানুষ টাকা নিয়ে কতটা সাবধান থাকে, সেটা তিনি তখনই বুঝেছিলেন।

পড়াশোনা আর দুই ভাষা
স্নাতক পর্যায়ে তাঁর বিষয় ছিল ব্যবসায় প্রশাসন। ক্লাসের তত্ত্বের চেয়ে মাঠের অভিজ্ঞতা তাঁকে বেশি টানত। তাই পড়া শেষ হওয়ার আগেই তিনি বিভিন্ন জেলায় প্রশিক্ষণের কাজে ঘুরতে শুরু করেন।
মাতৃভাষা বাংলা। ইংরেজিও তিনি ভালো জানেন, বিশেষ করে লেখার কাজে। তবে টিমের মিটিংয়ে তিনি প্রায় সবসময় বাংলাতেই কথা বলেন। তাঁর যুক্তি সহজ, সদস্যরা যে ভাষায় ভাবে, গাইডও সেই ভাষাতেই হওয়া উচিত।
ছাদবাগানের মরিচ আর টমেটো
বাসার ছাদে তাঁর একটা ছোট বাগান আছে। টবে কাঁচা মরিচ আর টমেটো ফলান তিনি। মৌসুম এলে ব্যাগভর্তি মরিচ-টমেটো নিয়ে অফিসে আসেন, আর দুপুরের খাবারের টেবিলে সেগুলো ভাগ হয়ে যায়।
টিমের রসিকতা হলো, তাঁর মরিচ যত ঝাল, তাঁর ধৈর্য তত ঠান্ডা। “গাছকে তাড়া দিলে ফল আসে না, নতুন মানুষকেও তাড়া দিলে শেখা হয় না,” তিনি একদিন হেসে বলেছিলেন। কথাটা এখন আমাদের সাপোর্ট দলের দেয়ালে লেখা।

CEO Rafia Sultana পর্যন্ত পৌঁছানোর উপায়
পাঠক, সদস্য বা ব্যবসায়িক অংশীদার, সবার জন্য তাঁর কাছে পৌঁছানোর পথ খোলা। তবে সেই পথ কেবল সাইটের ভেতরের ব্যবস্থাতেই সীমাবদ্ধ। নিরাপত্তার কারণে বাইরের কোনো পথ আমরা ব্যবহার করি না।
তিনি নিজে প্রতি সপ্তাহে সদস্যদের পাঠানো বার্তার একটা অংশ পড়েন। কোন প্রশ্ন বারবার আসছে, সেটা দেখেই পরের গাইডের বিষয় ঠিক হয়।
কন্টাক্ট ফর্ম আর চ্যাট সহায়তা
সাইটের কন্টাক্ট পাতায় একটা ছোট ফর্ম রাখা আছে। সেখান থেকে আসা বার্তা বিষয় অনুযায়ী সঠিক দলের কাছে যায়। গুরুতর অভিযোগ বা পরামর্শ সরাসরি তাঁর টেবিলেও পৌঁছায়।
দ্রুত সাহায্যের জন্য সাইটে লাইভ চ্যাট চালু আছে। চ্যাটের প্রতিনিধিরা তাঁর কাছেই প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। নতুন সদস্যের প্রশ্ন যত সাধারণই হোক, উত্তর দিতে হয় ধীরে, ধাপে ধাপে, পুরো বাক্যে।

সিইও দপ্তরের ইমেইল
ব্যবসায়িক প্রস্তাব, পরামর্শ বা নিরাপত্তা বিষয়ক বার্তার ঠিকানা ceo@mmcwcasino.trade। এই মেইলবক্স সিইও দপ্তরের কর্মীরা দেখেন। জরুরি বার্তাগুলো তিনি নিজে পড়েন।
আমাদের টিম কখনো ফোনে পিন, ওটিপি বা পাসওয়ার্ড চায় না। এজেন্ট প্রশিক্ষণের সময় থেকেই এই নিয়মটা তাঁর কাছে সবচেয়ে জরুরি। সাইটের সব যোগাযোগেও তাই একই কড়াকড়ি মানা হয়।

CEO Rafia Sultana যেভাবে সাইটটি গড়লেন
সাইটটির সূচনা ছোট শহরের দোকানের কাউন্টারে। CEO Rafia Sultana বৈশ্বিক মূল প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা নন। দেশের সদস্যদের কথা ভেবে বানানো এই সাইট তিনি দাঁড় করিয়েছেন, আর এখনো এর হাল ধরে আছেন।
প্রশিক্ষকের চাকরি, মাঠের অভিজ্ঞতা, তারপর অনলাইনের কাজ। এই তিন পর্ব মিলিয়েই আজকের রাফিয়া।
এজেন্টদের প্রশিক্ষক হিসেবে বছরগুলো
পড়া শেষে তিনি একটি মোবাইল আর্থিক সেবার এজেন্ট নেটওয়ার্কে প্রশিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তাঁর কাজ ছিল মফস্বলের দোকানি এজেন্টদের শেখানো, কীভাবে নতুন গ্রাহকের ওয়ালেট খুলতে হয় আর পরিচয় যাচাই করতে হয়।
সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন কাটত বাসে আর অটোরিকশায়। মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জের ছোট বাজারে চায়ের দোকানের বেঞ্চে বসে ক্লাস হতো। হাতে থাকত একটা পুরোনো ফোন আর ছাপানো ধাপের কাগজ।

নতুন ব্যবহারকারীদের ভয় চেনা
প্রশিক্ষণে আসা নতুন ব্যবহারকারীদের অনেকেই ছিলেন নারী। কেউ প্রথমবার নিজের নামে অ্যাকাউন্ট খুলছেন, কেউ স্বামী বা ছেলের ফোনে শিখছেন। তাঁদের সবচেয়ে বড় ভয় ছিল একটা ভুল চাপে টাকা হারিয়ে যাওয়া।
তিনি দেখলেন, ভয়টা প্রযুক্তির নয়, অচেনা ধাপের। “যে ধাপ চোখের সামনে পরিষ্কার, সেই ধাপে কেউ ভয় পায় না,” রাফিয়া বলেন। তাই তিনি প্রতিটি ধাপ ছবি দিয়ে, ধীরে, বারবার দেখাতেন।
অনলাইনে একই সমস্যা
পরে তিনি লক্ষ করেন, অনলাইন বিনোদনের সাইটগুলোতেও একই দৃশ্য। রেজিস্ট্রেশনের ফর্ম জটিল, যাচাইয়ের নিয়ম ইংরেজিতে লেখা, আর পেমেন্টের নির্দেশনা প্রায় অনুপস্থিত। নতুন সদস্যরা মাঝপথে আটকে যেতেন।
স্থানীয় MCW সাইটের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ আসে ঠিক এই সময়ে। CEO Rafia Sultana সিদ্ধান্ত নেন, প্রশিক্ষণের মাঠের শিক্ষাটাই এখানে কাজে লাগাবেন। শুরুর টিমে তিনি এমন মানুষদের নেন, যাঁরা কাউকে ধীরে বোঝাতে পারেন।

CEO Rafia Sultana-এর সময়ে যা বদলেছে
আমরা এখানে কোনো সংখ্যা বা পুরস্কারের দাবি রাখছি না। শুধু সেই বদলগুলো তুলে ধরছি, যেগুলো সাইটের পাতায় সরাসরি চোখে পড়ে।
কাজগুলো চোখ ধাঁধানো নয়। একটা ফর্মের ঘর কমানো, একটা নির্দেশনার শব্দ বদলানো, একটা ছবিতে তীরচিহ্ন যোগ করা। CEO Rafia Sultana মনে করেন, এমন ছোট কাজেই আস্থা তৈরি হয়।
সহজ রেজিস্ট্রেশন ও অ্যাকাউন্ট যাচাই
MCW সাইটের রেজিস্ট্রেশন ফর্ম তাঁর নির্দেশে নতুন করে সাজানো হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ঘর বাদ পড়েছে। প্রতিটি ঘরের পাশে বাংলায় ছোট ব্যাখ্যা যোগ হয়েছে।
অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের ধাপগুলোও এখন একটি পাতায় গোছানো। কোন কাগজ লাগবে, ছবি কেমন হওয়া উচিত, কতক্ষণ সময় লাগতে পারে, সব সেখানে পরিষ্কার লেখা। এজেন্টদের হাতে যে ধাপের কাগজ তিনি দিতেন, পাতাটা দেখতে অনেকটা সেরকম।

বিকাশ, নগদ ও রকেটের ধাপে ধাপে গাইড
দেশি পেমেন্টের জন্য বিকাশ, নগদ আর রকেটের আলাদা আলাদা গাইড তৈরি হয়েছে। প্রতিটি গাইডে স্ক্রিনশট আছে, আর প্রতিটি ধাপের নিচে এক লাইনের সতর্কতা আছে।
এই গাইডগুলো লেখার আগে টিম নিজেরাই প্রতিটি ধাপ বারবার পরীক্ষা করেছে। ভুল নম্বরে টাকা পাঠানো, ওটিপি শেয়ার করা বা অচেনা লিংকে চাপ দেওয়ার ঝুঁকি নিয়ে আলাদা অংশ রাখা হয়েছে। প্রশিক্ষণের দিনগুলোর সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলোই এখানে তালিকায় উঠেছে।
প্রথমবারের সদস্যদের জন্য ধৈর্যশীল সাপোর্ট
সাপোর্ট দলের প্রশিক্ষণ তিনি নিজে নেন। নতুন সদস্য একই প্রশ্ন তিনবার করলে তিনবারই শান্তভাবে উত্তর দেওয়া হয়। কাউকে তাড়াহুড়ো করে চ্যাট থেকে বিদায় দেওয়া এখানে নিষেধ।
“প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা খারাপ হলে মানুষ দ্বিতীয় দিন আর ফেরে না,” CEO Rafia Sultana বলেন। এই কারণে প্রথমবারের সদস্যদের প্রশ্নের জন্য আলাদা একটি উত্তর-নির্দেশিকা বানানো হয়েছে। চ্যাটে উত্তর পেতে এখন আগের মতো দেরি হয় না।

CEO Rafia Sultana-এর সামনের প্রতিশ্রুতি
সামনের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বড় ঘোষণা দেন না। তাঁর ডায়েরিতে কয়েকটি ছোট প্রতিশ্রুতি লেখা আছে। মাস শেষে পুরো দল বসে দেখে কতটা এগোল।
প্রতিটি প্রতিশ্রুতির পাশে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকর্মীর নাম থাকে। কথা দেওয়ার আগে সেটা রাখা যাবে কি না, তিনি আগে সেটাই ভাবেন।
স্বচ্ছতা ও তথ্যের নিরাপত্তা
এক নম্বরে খোলামেলা থাকা। যাচাই বা পেমেন্টের কোনো শর্ত বদলালে আগের শর্তও একই পাতায় রেখে দেওয়া হবে। প্রতিটি গাইডে লেখা থাকবে, কবে শেষবার সেটি সংশোধন হয়েছে।
দুই নম্বরে তথ্যের সুরক্ষা। সদস্যদের ব্যক্তিগত কাগজপত্র কীভাবে সংরক্ষণ হয়, সে বিষয়ে একটি সহজ বাংলা ব্যাখ্যা প্রকাশের কাজ চলছে। দেশি পেমেন্ট গাইডগুলোতেও নিয়মিত নতুন ছবি আর সতর্কতা যোগ হবে।

বয়সসীমা আর আইনের প্রশ্নে
এই সাইট শুধু আঠারো বছর পূর্ণ হওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। প্রত্যেক সদস্যকে নিজের দেশ ও অঞ্চলের প্রযোজ্য আইন মেনে চলতে হবে, আর অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের সময় বয়স পরীক্ষা কঠোরভাবে করা হয়।
অনলাইন বিনোদনকে আয়ের পথ হিসেবে দেখানো এখানে নিষিদ্ধ। জয়ের কোনো নিশ্চয়তা নেই, এই কথাটা সাইটের গুরুত্বপূর্ণ পাতাগুলোতে স্পষ্ট লেখা থাকবে। খরচ ও সময়ের সীমা ঠিক করার টুল নিয়েও আলাদা গাইড আসছে।

CEO Rafia Sultana ও আমাদের টিম
তাঁর সঙ্গে কাজ করা মানে প্রতিদিন একটু করে ধৈর্য শেখা। কোনো সমস্যা এলে তিনি আগে জিজ্ঞেস করেন, নতুন একজন সদস্য এটা কীভাবে দেখবেন। উত্তরটা সেখান থেকেই খোঁজা শুরু হয়।
টিমের সবাই জানে, তাঁর কাছে কোনো প্রশ্নই ছোট নয়। মিটিংয়ে সবচেয়ে নতুন সহকর্মীর মতামত তিনি সবার আগে শোনেন।
টিমের চোখে রাফিয়া
সহকর্মীদের কাছে তিনি শিক্ষক আর বড় বোনের মাঝামাঝি কেউ। ভুল হলে বকা দেন না, বরং ধাপগুলো আবার লিখে দেখান। ভুলটা কোথায় হয়েছে, সেটা দুজনে মিলে খুঁজে বের করেন।
গ্রীষ্মে তাঁর ছাদের টমেটো আর শীতে কাঁচা মরিচ অফিসের রান্নাঘরে নিয়মিত হাজির হয়। টিফিনের সময় সেই ভাগাভাগির আড্ডায় অনেক নতুন গাইডের ভাবনা জন্ম নিয়েছে।

শেষ কথা
নারায়ণগঞ্জের দোকানের কাউন্টার থেকে মফস্বলের চায়ের দোকান, তারপর এই সাইট। CEO Rafia Sultana প্রতিটি জায়গা থেকে একই শিক্ষা এনেছেন। নিরাপদ শুরুই একজন নতুন মানুষের আস্থার ভিত্তি।
সহজ রেজিস্ট্রেশন, পরিষ্কার পেমেন্ট গাইড আর ধৈর্যশীল সাপোর্ট, এই তিনটি জিনিসই MCW সাইটে তাঁর নেতৃত্বের পরিচয়। আমাদের টিম সেই পথেই প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছে।

